দেশের জীবনরেখা নদীগুলো আজ ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, ভৈরব ও ময়ুর নদ থেকে শুরু করে তুরাগ নদের পানি কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য আর অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্যের কারণে কুচকুচে কালো ও দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে। নদীতে কোনো অক্সিজেন না থাকায় জলজ প্রাণির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর নদীর তীরবর্তী মানুষজন চর্মরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি চাষাবাদের জমিতে প্রবেশ করায় দেশের কৃষি খাত এক বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরবনসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকার মিষ্টি পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং লাখ লাখ মানুষ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাস্তুচ্যুত হয়ে ‘জলবায়ু শরণার্থী’ হিসেবে শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দেশের পরিবেশকে ভেতর থেকে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের ড্রেন ও নর্দমাগুলো প্লাস্টিক বর্জ্যে আটকে গিয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এই বর্জ্যগুলো মাটির নিচে জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে দিন দিন আরও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন এবং পার্বত্য বনাঞ্চল আজ একশ্রেণির ভূমিদস্যুদের কারণে উজাড় হয়ে যাচ্ছে।
দেশের পাঠ্যপুস্তকে পরিবেশ শিক্ষার গুরুত্ব বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রজন্মের মনে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। তরুণ সমাজকে পরিবেশ আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণই শুধু আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে আবার রূপসী বাংলায় রূপান্তর করতে পারে। পরিবেশ সচেতনতার এই বৈশ্বিক লড়াইয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশ সম্মেলনের মাধ্যমে। সেই সম্মেলনের প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘ ৫ জুনকে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৭৪ সাল থেকে এটি নিয়মিত পালিত হয়ে আসছে। এই দিবসের মূল তাৎপর্য হলো পৃথিবীর সর্বস্তরের মানুষকে প্রকৃতির প্রতি তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
খুলনা গেজেট/এনএম

